যে কারনে শেখ হাসিনাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হল

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আদালত অবমাননার এক মামলায় ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে। একই মামলায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ শাখার নেতা শাকিল আকন্দ বুলবুলকে ২ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এই রায় প্রদান করেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল। অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। বুধবার দুপুরে এ রায় ঘোষণা করা হয়।

ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা ও ছাত্রলীগ নেতা শাকিল আকন্দ বুলবুলের মধ্যে কথিত একটি টেলিফোন কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এই মামলা দায়ের হয়। আলোচিত সেই অডিওতে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, “আমার বিরুদ্ধে ২২৭টি মামলা হয়েছে, তাই ২২৭ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়ে গেছি।”

পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অডিওটির ফরেনসিক পরীক্ষা করে এর সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, এটি এআই-জেনারেটেড নয় এবং এটি শেখ হাসিনা ও শাকিল বুলবুলের প্রকৃত কথোপকথন।

চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর শেখ হাসিনা ও শাকিল আকন্দ বুলবুলের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনেন। এরপর আদালত ১৫ মে’র মধ্যে তাদের লিখিত জবাব দাখিলের নির্দেশ দেয়। নির্ধারিত সময়েও তারা জবাব না দেওয়ায় ২৫ মে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

শেখ হাসিনা কোনো আইনজীবীর মাধ্যমে ব্যাখ্যা না দেওয়ায় এবং স্ব-শরীরে হাজির না হওয়ায় আদালত নিজেই একজন আইনজীবী নিয়োগ দেয়। পরে ১৯ জুন অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে এ ওয়াই মশিউজ্জামানকে নিয়োগ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রসিকিউশন ও অ্যামিকাস কিউরির যুক্তি ও ফরেনসিক প্রমাণ যাচাই করে আদালত রায় প্রদান করে। প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, “সিআইডির রিপোর্টে প্রমাণিত হয়েছে যে এই কথোপকথন সত্য। এতে দেখা গেছে শেখ হাসিনা বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হুমকি প্রদান করেছেন। এতে তিনি বিচার ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন।”

আদালত মত দিয়েছেন, “শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বাদী, সাক্ষী এবং তদন্ত কর্মকর্তাদের হত্যা ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩–এর ১১(৪) ধারায় এটা আদালত অবমাননা এবং বিচার প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করার স্পষ্ট উদাহরণ।”

রায়ে বলা হয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও শাকিল আকন্দ বুলবুল আত্মসমর্পণ করলে অথবা পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার হলে সেই দিন থেকে তাদের সাজা কার্যকর হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

চলতি বছরের জুলাইয়ে অভ্যুত্থান দমনকালে মানবতাবিরোধী অপরাধে পাঁচটি অভিযোগ আমলে নিয়ে শেখ হাসিনা এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

এছাড়াও আওয়ামী লীগের দলীয় কাঠামোর বিরুদ্ধে দল হিসেবে বিচার নিশ্চিত করতে আইন সংশোধন করেছে বর্তমান সরকার। বিচারের আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ২৪

Leave a Reply