বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও সমাজসেবক বিল গেটস সম্প্রতি স্থূলতা মোকাবেলায় একটি সমন্বিত পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, “স্থূলতা এমন একটি সমস্যা যা শুধুমাত্র অর্থ দিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়।”
গেটসের মতে, ওজন কমানোর জন্য ব্যবহৃত GLP-1 গ্রুপের ওষুধগুলো শরীরের প্রাকৃতিক হরমোনের কার্যকারিতা অনুকরণ করে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে। এই ওষুধগুলো পেট খালি হওয়ার গতি কমিয়ে দেয়, ফলে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তৃপ্তি অনুভূত হয় এবং কম খাওয়া হয়। এতে ওজন কমানো সম্ভব হয়।
তবে গেটস সতর্ক করে বলেন, “জীবনধারার পরিবর্তন কঠিন; আমরা এতে তেমন সফল হইনি।” তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র ওষুধের উপর নির্ভর না করে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সচেতনতার মাধ্যমে স্থূলতা সমস্যার মোকাবিলা করা উচিত।
তার মতে, ওষুধ হয়তো একটি সহায়ক উপায় হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি টেকসই সমাধান নয় যদি না মানুষের জীবনধারায় পরিবর্তন আসে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক আলোচনায় গেটস জানান, মোদি যোগব্যায়ামের মাধ্যমে স্থূলতা কমানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। গেটস বলেন, “এটি কঠিন কাজ; অনেক দেশই জীবনধারার পরিবর্তনে সফল হয়নি।”
তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ভারত এই সমস্যার সমাধানে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, GLP-1 ওষুধগুলো মূলত টাইপ ২ ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হলেও, বর্তমানে ওজন কমানোর জন্যও ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এই ওষুধ গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এই ওষুধগুলো শরীরে নানা পরিবর্তন আনতে পারে, যেমন: ক্ষুধা হ্রাস, হজমের গতি ধীর করা, যা ওজন কমাতে সাহায্য করে। তবে এটি কখনোই স্বাস্থ্যকর জীবনধারার বিকল্প হতে পারে না।
বিল গেটস মনে করেন, স্থূলতা একটি সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ, যার মোকাবেলায় শুধু প্রযুক্তি নয়, প্রয়োজন ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক সচেতনতা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “জীবনধারার পরিবর্তন ছাড়া শুধুমাত্র ওষুধের উপর নির্ভর করে স্থূলতা সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।”
তার এই বক্তব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে: যে, প্রযুক্তি বা ওষুধ যতই উন্নত হোক না কেন, মানুষের অভ্যাস, সচেতনতা এবং জীবনধারাই যে কোনও স্বাস্থ্য সমস্যার মূল সমাধান।
স্থূলতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এ ধরণের সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গিই হতে পারে দীর্ঘস্থায়ী ও কার্যকর সমাধানের চাবিকাঠি।
তথ্যসূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ
নিউজ র্যাটর ২৪ ঘণ্টা বাংলার খবর