মধ্যপ্রাচ্যে যখন ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই ইরানের উত্তরাঞ্চলে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ১। ইরানের ফারস নিউজ এজেন্সির বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে জর্ডানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়া নিউজ।
স্থানীয় সময় রাত ৯টা ১৯ মিনিটে এই ভূমিকম্পটি অনুভূত হয় রাজধানী তেহরান এবং কোম প্রদেশে। বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই অঞ্চলেই অবস্থিত ইরানের সুদৃঢ় পরমাণু স্থাপনা ‘ফোরদো’। ফলে ভূমিকম্পের তাৎক্ষণিক প্রভাব না থাকলেও উদ্বেগের জায়গা থেকেই যাচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানায়, ভূমিকম্পটি ইরানের সেমনান শহরের প্রায় ৩৭ কিলোমিটার (২৩ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে ১০ কিলোমিটার (৬ মাইল) গভীরে আঘাত হানে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে প্রাথমিকভাবে কিছু ভবন কাঁপুনি অনুভব করেছে বলে জানা গেছে।
একই সময়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে ইরাক। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরাকের প্রতিনিধি জানান, বৈঠকের ঠিক আগে ইসরায়েলের ৫০টি যুদ্ধবিমান ইরাকের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করেছে।
আলজাজিরার বরাতে জানা যায়, ইরাকের জাতিসংঘ মিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স আব্বাস কাযম ওবায়েদ আল-ফাতলাওয়ি জানান, সিরিয়া-জর্ডান সীমান্ত এলাকা থেকে প্রথমে ২০টি এবং পরে আরও ৩০টি যুদ্ধবিমান ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলে প্রবেশ করে। বসরা, নাজাফ ও কারবালা শহরের আকাশসীমা অতিক্রম করেছে এসব বিমান।
আল-ফাতলাওয়ি জানান, এই ধরনের আকাশসীমা লঙ্ঘন আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, পবিত্র ধর্মীয় স্থানগুলোর ওপর এমন হুমকি ইরাকি জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। কারণ এসব স্থান শুধু ধর্মীয় নয়, বরং জাতীয় পরিচয় ও সংস্কৃতির অংশ।
আরেকটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছে ইসরায়েল। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বিশেষ অধিবেশনে তারা জানায়, ইরান নাকি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে গুপ্তহত্যার চেষ্টা করেছে।
ইসরায়েলের জাতিসংঘ প্রতিনিধি বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বহুবার প্রকাশ্যে ইসরায়েল ধ্বংসের কথা বলেছেন, এবং সেই অনুযায়ী কাজও করছেন। তিনি দাবি করেন, এই হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনাই তার বাস্তব প্রমাণ।
ইসরায়েলি প্রতিনিধি আরও অভিযোগ করেন, ইরানের রাষ্ট্রীয় সমর্থনে পরিচালিত গোষ্ঠীগুলো শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি নাগরিকদের টার্গেট করে হামলা চালাচ্ছে। তিনি জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানান, ইরানকে আর সময় না দিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার।
যদিও এসব অভিযোগের পেছনে ইসরায়েল কোনো নির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ দেয়নি, বিশ্লেষকরা মনে করছেন এটি একটি কূটনৈতিক কৌশল হতে পারে। ইসরায়েল হয়তো একটি নতুন আন্তর্জাতিক ন্যারেটিভ গড়ে তুলতে চাইছে, যার মাধ্যমে তারা ইরানের ওপর আরও সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে পারবে।
মধ্যপ্রাচ্য যখন ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনার কেন্দ্রস্থলে, তখন ইরানে শক্তিশালী ভূমিকম্প নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে আকাশসীমা লঙ্ঘন এবং গুপ্তহত্যার অভিযোগ, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক চাপ ও উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।
তথ্যসূত্র: কালবেলা
নিউজ র্যাটর ২৪ ঘণ্টা বাংলার খবর