ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং যুদ্ধবিরতির পর ভারতের সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠনের সমর্থনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ইরান। বুধবার (২৫ জুন) দিল্লিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এক বিবৃতিতে এই ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ভারতের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ—রাজনৈতিক দল, সংসদ সদস্য, বেসরকারি সংস্থা, ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক নেতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সংবাদকর্মী, সামাজিক কর্মী এবং সাধারণ নাগরিকদের প্রতি ইরান আন্তরিক শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে।
তেহরান জানিয়েছে, এই সমর্থন ইরানি জনগণের মনোবলে এক দৃঢ় অবস্থান এনে দিয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, যুদ্ধ পরিস্থিতির সময় যেসব ব্যক্তি ও সংগঠন শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করেছেন, সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দিয়েছেন এবং প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়েছেন—তারা ইরানের সাহস ও দৃঢ়তাকে শক্তিশালী করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ইরানের বিবৃতিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এই নিরপেক্ষতা ভারত ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করার কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তেহরান স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তারা ভারতের জনগণের অবস্থানকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত রবিবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। এরপর থেকেই ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার উত্তেজনা চরমে পৌঁছে। পরে এই সংকট প্রশমনে মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যা বুধবার পর্যন্ত কার্যকর ছিল।
ইরানি দূতাবাস জানিয়েছে, এই সময়ে ভারতের পক্ষ থেকে যে সমর্থন এসেছে তা শুধু রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং এটি মানবতা, ন্যায়বিচার এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক। ইরান দাবি করে, তারা সবসময়ই আন্তর্জাতিক আইনের নীতিমালার পক্ষে এবং যেকোনো ধরনের আগ্রাসন ও সম্প্রসারণবাদের বিরোধী।
বিবৃতির শেষাংশে ইরান উল্লেখ করে, “যুদ্ধ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে বিশ্বের জনগণ ও জাতিগুলোর ঐক্যই কেবল সত্যিকারের শান্তির পথ খুলে দিতে পারে। ভারতের জনগণের অবস্থান সে ঐক্যেরই বাস্তব প্রমাণ।”
ইরান এই বার্তার মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছে, আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিলতা ছাড়াও মানবিক সমর্থন ও সচেতনতা কিভাবে একটি দেশের জনগণের পাশে দাঁড়াতে পারে—ভারত সে উদাহরণই স্থাপন করেছে।
তথ্যসূত্র: কালের কণ্ঠ
নিউজ র্যাটর ২৪ ঘণ্টা বাংলার খবর