সংগীতশিল্পী মাঈনুল আহসান নোবেলকে রাজধানীর ডেমরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ইডেন কলেজের এক ছাত্রীকে সাত মাস ধরে আটকে রেখে ধর্ষণ ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছেন।
ডেমরা থানার ওসি মাহমুদুর রহমান জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে একটি ফোন কলের ভিত্তিতে সোমবার (২০ মে) রাত ১০টার দিকে অভিযান চালানো হয়। ডেমরার একটি বাসা থেকে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে উদ্ধার করে পুলিশ।
পরবর্তীতে রাত ২টার দিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সংগীতশিল্পী নোবেলকে একই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার এড়াতে নোবেল একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করে দেশত্যাগের চেষ্টা করছিলেন, তবে তাকে আগেই আটক করা হয়।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নোবেল এক নারীকে সিঁড়ি দিয়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। ওসি মাহমুদুর রহমান জানিয়েছেন, ভিডিওতে দেখা যাওয়া নারীই ভুক্তভোগী ছাত্রী। ভিডিওটি দেখেই মেয়েটির পরিবার টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় এসে থানায় অভিযোগ দায়ের করে।
নোবেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, পর্নোগ্রাফি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, নোবেল ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে তা ব্যবহার করে ভুক্তভোগীকে ব্ল্যাকমেইল করতেন।
পুলিশ জানায়, এই ঘটনায় একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ভুক্তভোগীর জবানবন্দি রেকর্ড ও প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে।
নোবেল প্রথম আলোচনায় আসেন একটি সংগীত রিয়েলিটি শো-এর মাধ্যমে। তবে সময়ের সাথে সাথে তিনি একাধিক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। এই সর্বশেষ অভিযোগ তার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে গুরুতর আইনি বিপর্যয় বলে মনে করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যেই এ ঘটনার ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। নেটিজেনরা ন্যায়বিচার ও ভুক্তভোগীর পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এ মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নোবেলকে রিমান্ডে নেওয়া হতে পারে এবং প্রয়োজনে আরও অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
নিউজ র্যাটর ২৪ ঘণ্টা বাংলার খবর