ভারতে আবারো সাবধানতা অবলম্বন করতে হচ্ছে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে। সম্প্রতি তিনি অ্যাপল সংক্রান্ত এক মন্তব্য করে ভারতীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন। ট্রাম্প বলেন, “ভারতে আর অ্যাপল পণ্য তৈরি করার দরকার নেই।” এই বক্তব্য ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক।
এই বিতর্কের মাঝেই বলিউড অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে একটি বিতর্কিত পোস্ট করেন। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করে মোদির সাথে তুলনা টেনে আনেন এবং মোদিকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা’ বলে আখ্যায়িত করেন।
কঙ্গনার পোস্টে লেখা ছিল, “ট্রাম্প দ্বিতীয় দফার প্রেসিডেন্ট, অথচ মোদি তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। ট্রাম্প যদি আলফা পুরুষ হন, তবে মোদি হলেন ‘সব আলফামেলের বাবা’।”
কঙ্গনা তার পোস্টে আরও লিখেন, “এই মন্তব্য কি কূটনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা থেকে, নাকি ব্যক্তিগত ইর্ষা থেকে এসেছে?” এই মন্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।
বিতর্কের তীব্রতা বাড়তেই বিজেপির প্রেসিডেন্ট জেপি নডা সরাসরি কঙ্গনাকে ফোন করে পোস্টটি মুছে ফেলার নির্দেশ দেন। নির্দেশ পাওয়ার পর কঙ্গনা দ্রুত সেই পোস্টটি সরিয়ে ফেলেন এবং নিজের মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করেছি, কিন্তু সেটা উপযুক্ত ছিল না। দলের নির্দেশ পাওয়ার পরই আমি পোস্টটি মুছে ফেলেছি।”
এই ঘটনাটি মোদি সরকারের জন্য একটি বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। একদিকে ভারতের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক, অন্যদিকে দলের জনপ্রিয় সাংসদদের সামাজিক মাধ্যমে স্বাধীন মতামত—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখা কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষত, যেভাবে কঙ্গনার মন্তব্য আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে, তা বিজেপির জন্য রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অ্যাপল সংক্রান্ত ট্রাম্পের বক্তব্য ভারতীয় প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতে নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। এমন সময়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি একজন দলের সাংসদের ব্যক্তিগত প্রশংসাসূচক পোস্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনামূলক সমালোচনা করে নতুন কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও উঠে এলো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সামাজিক মাধ্যমে মতামত প্রকাশে দলের নীতিগত অবস্থান ও কূটনৈতিক বাস্তবতার সংঘর্ষ। কঙ্গনার পোস্ট একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির সমর্থন পেলেও, আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে তা ভারত সরকারের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বিজেপি এখন স্পষ্টভাবে দেখছে, দলের জনপ্রিয় মুখদের অনিয়ন্ত্রিত বক্তব্য আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।
তথ্যসূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ
নিউজ র্যাটর ২৪ ঘণ্টা বাংলার খবর