আমি একজন গর্বিত ‘র’ এজেন্ট ছিলাম! বললেন অভিনেত্রী বাঁধন

ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরি হক বাঁধন শুধুমাত্র রূপালি পর্দার তারকা নন, বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠ হিসেবেও তিনি আজ পরিচিত। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সূচনালগ্ন থেকেই রাজপথে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন তিনি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করায় তার বিরুদ্ধে ছড়ানো হয়েছে নানা কটূক্তি ও গুজব।

বাঁধনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অপপ্রচার চালানো হয়েছে। তাকে ভারতের ‘র’, যুক্তরাষ্ট্রের ‘সিআইএ’ এবং ইসরায়েলের ‘মোসাদ’ গোয়েন্দা সংস্থার ‘এজেন্ট’ বলে অভিযুক্ত করা হয়। তবে এসব অভিযোগ বাঁধন কখনোই স্বীকার করেননি। বরং এইসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই বিবেচনা করেছেন তিনি।

২০২১ সালে বলিউডের নামকরা পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজের সিনেমা ‘খুফিয়া’তে অভিনয় করেন বাঁধন, যেখানে তার সহশিল্পী ছিলেন বলিউডের বিখ্যাত অভিনেত্রী টাবু। সিনেমাটির প্রিমিয়ারে অংশ নিতে গিয়ে বাঁধনকে পাঁচবার ভিসা প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হতে হয়।

রবিবার (২৫ মে) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বাঁধন লেখেন, “২০২১ সালে আমি একজন গর্বিত ‘র’ এজেন্ট ছিলাম। তখন প্রিয় অভিনেত্রী টাবুর সঙ্গে বিশাল ভরদ্বাজ পরিচালিত বলিউড সিনেমা ‘খুফিয়া’য় অভিনয় করেছিলাম। কিন্তু পরে অবস্থা বদলে গেল। আমি ছবির প্রিমিয়ারে যোগ দিতে পারিনি। কেন? কারণ ভারতীয় হাইকমিশন আমার ভিসা প্রত্যাখ্যান করেছিল। একবার নয়, পাঁচবার।”

তিনি আরও জানান, ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে দুটি সাক্ষাৎকারে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। সেখানে হাইকমিশনের কর্মকর্তারা তার একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। সেই পোস্টে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রোগ্রামে ভিপি নূরের সঙ্গে বাঁধনের একটি ছবি।

ভিসা পেতে বাঁধনকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। “আমাকে অনেক কানেকশন ব্যবহার করতে হয়েছিল—নিজের দেশের প্রভাবশালী মানুষদের কাছাকাছি থাকার সুবিধার্থে, কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে হাস্যজ্জল ছবির কারণে অবশেষে আমি এক মাসের সিঙ্গেল-এন্ট্রি ভিসা পেলাম,”—ফেসবুক পোস্টে এমনটাই উল্লেখ করেন তিনি।

নিজের পোস্টে বাঁধন যে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তা ছিল গভীরভাবে আবেগঘন। তিনি লেখেন, “কী মর্মান্তিকভাবে নষ্ট হলো এক ঐতিহাসিক সুযোগ! আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম একটি ভালো, ন্যায়ের ওপর গড়া দেশ, যেখানে থাকবে সততা, থাকবে আশার আলো। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন চূর্ণবিচূর্ণ।”

সবকিছু সত্ত্বেও আজমেরি হক বাঁধন সমাজের অসঙ্গতির বিরুদ্ধে তার অবস্থানে অটল রয়েছেন। ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে নানান বাধার সম্মুখীন হয়েও তিনি অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। তার এই অবস্থান অনেক তরুণ-তরুণীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।

তথ্যসূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ

Leave a Reply