ছাত্রীদের ওপর গাড়ি তুলে দেওয়ার সেই ভাইরাল ভিডিও নিয়ে যা জানা গেল

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার ভিডিও নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিভ্রান্তি। ভিডিওটিতে দেখা যায়, স্কুল ইউনিফর্ম পরিহিত কয়েকজন শিক্ষার্থী রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগামী একটি গাড়ি এসে তাদেরকে চাপা দেয়। হৃদয়বিদারক এ দৃশ্য দেখে অনেকেই ধারণা করেন ঘটনাটি বাংলাদেশে ঘটেছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি প্রথমে ছড়ায় ‘কামরুল হাসান অনি’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে। সেখানে ক্যাপশনে লেখা হয়— “স্বাধীন দেশের অবস্থা, বেপরোয়া গতি, মানুষের ক্ষতি।” এমন শিরোনাম এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে অনেকেই ধারণা করেন এটি বাংলাদেশের কোনো সড়কে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা, এবং সেই বিশ্বাস থেকেই তারা ভিডিওটি শেয়ার করতে থাকেন।

তবে বিষয়টি আরও বিশ্লেষণ করে দেখা হলে জানা যায়, ভিডিওটি আদতে বাংলাদেশের কোনো ঘটনা নয়। রিভার্স ইমেজ সার্চ এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট ঘেঁটে নিশ্চিত হওয়া গেছে— এটি ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের দেহরাদুন শহরের একটি দুর্ঘটনার ফুটেজ। ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ২৩ এপ্রিল, শহরের সেলাকি নামক এলাকায়।

নিউজ১৮-এর প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানা যায়, স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার পথে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি গাড়ি উঠে গেলে আটজন শিক্ষার্থী আহত হয়। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রযুক্তি ও গণমাধ্যম বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন— যাচাই না করা ভিডিও বা তথ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে জনমনে অযথা আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। অনেক সময় ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা ক্যাপশন সংযুক্ত করে এসব ভিডিও ভাইরাল করা হয়, আবার অনেক সময় মানুষ অজ্ঞতাবশত তেমনটি করে বসেন।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাইরাল কনটেন্ট শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে এমন কনটেন্ট যা জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে অথবা রাষ্ট্র ও সমাজের নিরাপত্তা বিষয়ে ভুল বার্তা দিতে পারে, তা যাচাই ছাড়া প্রচার করা উচিত নয়।

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া এই দুর্ঘটনার ভিডিওর প্রেক্ষাপটে স্পষ্ট হয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে প্রচার করা কতটা ক্ষতিকর হতে পারে। সচেতন ব্যবহারকারী হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে অন্যদের সাবধান করা। নাহলে অপ্রচারের ফাঁদে পড়ে ব্যক্তি ও সমাজ— উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তথ্যসূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ

Leave a Reply