পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শফকত আলী খান শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সতর্ক করে বলেছেন, যদি ভারত বিরোধ পুনরায় শুরু করে, তাহলে পাকিস্তান পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হবে।
সংবাদ সম্মেলনে শফকত আলী খান বলেন, “ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। আমরা ভারতকে এর বাস্তবায়নে সততার সঙ্গে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।” তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করেন, “যদি ভারত বিরোধ পুনরায় শুরু করে, তাহলে পাকিস্তান পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হবে।”
তিনি জানান, যুদ্ধবিরতির পথ সুগম করতে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি পাকিস্তান কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, “পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির জন্য বিভিন্ন দেশের ভূমিকার প্রশংসা করেছে এবং কাশ্মীর বিরোধ সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে।”
ভারতের সাম্প্রতিক অবস্থানকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে শফকত বলেন, “ভারত পাকিস্তানকে হতাশা ও ক্ষোভের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করছে, যা ভিত্তিহীন।” তিনি আরও জানান, পাকিস্তান ও ভারত উভয় দেশের সামরিক প্রধানরা ১০ মে থেকে নিয়মিত যোগাযোগে রয়েছেন এবং “পর্যায়ক্রমিক উত্তেজনা কমানোর জন্য একটি কাঠামোগত প্রক্রিয়া” নিয়ে আলোচনা করেছেন।
শফকত আলী খান বলেন, “পাকিস্তান একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র এবং যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে ও অঞ্চলে স্থিতিশীলতা আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
তিনি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা ভারতকে তার প্রতিশ্রুতি মেনে চলতে এবং অতিরিক্ত আগ্রাসন থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করে। তিনি বলেন, “আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় আন্তর্জাতিক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার এক পৃথক বিবৃতিতে ভারতকে “সমন্বিত সংলাপ” শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সমস্ত অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যায়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফও ভারতকে শান্তি আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিয়েছেন, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি উত্তেজনা হ্রাসের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতাকে “শান্তির দূত” হিসেবে অভিহিত করেছে।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান কেবল দুই দেশের জন্য নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান ইতোমধ্যেই বার্তা দিয়েছে যে তারা শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে রয়েছে, তবে প্রয়োজন হলে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিতেও প্রস্তুত। এখন সময় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও ভারতের পক্ষ থেকে গঠনমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার।
তথ্যসূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ
নিউজ র্যাটর ২৪ ঘণ্টা বাংলার খবর