এসএসসি পাস না করেই সাবেক সংসদ সদস্য কলেজের প্রভাষক!

পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়ালের স্ত্রী লায়লা পারভীনের বিরুদ্ধে জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে এক দশকেরও বেশি সময় সরকারি চাকরি করার প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে, এসএসসি থেকে স্নাতক পর্যন্ত তার সকল শিক্ষাগত সনদই ভূয়া। অথচ এই জাল সনদ দেখিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ইসলামিক শিক্ষা বিষয়ে প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন নাজিরপুর সরকারি মহিলা কলেজে, যার পূর্ব নাম ছিল বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব মহিলা কলেজ।

দুদকের দায়ের করা মামলায় বলা হয়, সাবেক সংসদ সদস্য আউয়ালের প্রভাব খাটিয়ে তার স্ত্রীকে চাকরি পাইয়ে দেন তারই প্রতিষ্ঠিত কলেজে। প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত। এই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেন কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ ঠাকুরচাঁদ মজুমদার। তিনি লায়লা পারভীনকে কলেজ গভর্নিং বডিতে দাতা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন এবং পরবর্তীতে তার নিয়োগ অনুমোদনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ ঠাকুরচাঁদ মজুমদার বলেন, “আমি শুধু সহযোগিতা করেছি, আয়োজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। নিয়োগ চূড়ান্ত করার দায় ডিজি মহোদয়ের প্রতিনিধি কর্তৃক হয়ে থাকে।”

জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি পাওয়ার পাশাপাশি, ২০১৮ সালে কলেজটি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর থেকে সরকারি কোষাগার থেকে মাসিক বেতন ও অন্যান্য সুবিধা বাবদ প্রায় ৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন লায়লা পারভীন। এই তথ্যও দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সাবেক এমপি আউয়াল ও তার স্ত্রী ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে আত্মগোপনে চলে যান। তবে এতদিন পর এসে দুদকের অনুসন্ধান এই দম্পতিকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

এই ঘটনার পর সাধারণ মানুষ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন তুলছেন, কীভাবে একটি সরকারি কলেজে এতো দীর্ঘ সময় ধরে একজন ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি প্রভাষক পদে কর্মরত ছিলেন? নিয়োগ কর্তৃপক্ষ, অনুমোদন দাতা, এমপিওর সময় যাচাইকারী দপ্তরের দায়িত্বহীনতা কি তাহলে এই জালিয়াতিকে প্রশ্রয় দিয়েছে?

জনসাধারণ ও শিক্ষাখাত সংশ্লিষ্ট মহল চাইছে, জাল সনদধারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি, যারা এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত করে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

তথ্যসূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ

Leave a Reply