সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও টুইটারে একটি বিভ্রান্তিকর খবর ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিল্লী পুলিশের সহযোগিতায় গ্রেফতার করেছে ইন্টারপোল। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই খবরের কোনো ভিত্তি নেই এবং এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব।
যে খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, তা নিয়ে দিল্লী পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। বরং ভারতের কোনও সংবাদ সংস্থা বা পুলিশ বাহিনী এমন একটি ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখও করেনি।
একইসঙ্গে ইন্টারপোলের পক্ষ থেকেও শেখ হাসিনার গ্রেফতারের বিষয়ে কোনও ঘোষণা বা তথ্য পাওয়া যায়নি। ইন্টারপোল এমন সংবেদনশীল গ্রেফতার বা সহযোগিতার বিষয়ে বরাবরই আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদান করে থাকে। সেক্ষেত্রে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অনুপস্থিতি থেকেই এটি যে গুজব, তা সহজেই অনুমান করা যায়।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার বা বিদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় আটক করার বিষয়ে কোনও বক্তব্য বা ঘোষণা আসেনি। সচিবালয়, বিদেশ মন্ত্রণালয় কিংবা তথ্য অধিদপ্তর—কোনো সংস্থা থেকেই এ ধরনের সংবাদ নিশ্চিত করা হয়নি।
বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম যেমন BBC, Al Jazeera, CNN, The Guardian, কিংবা Times of India—এর কোনো মাধ্যমেই শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের বিষয়ে কোনও প্রতিবেদন দেখা যায়নি। আন্তর্জাতিকভাবে এ ধরনের সংবেদনশীল রাজনৈতিক ঘটনা গুরুত্বসহকারে প্রচারিত হয়ে থাকে। ফলে এই বিষয়টি নিয়ে কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া বা সংবাদ প্রকাশ না হওয়াও প্রমাণ করে এটি একটি ভিত্তিহীন গুজব।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি একটি পরিকল্পিত গুজব যা সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ছড়ানো হয়েছে। এ ধরনের ভুয়া তথ্য বিভ্রান্তি তৈরি করে সাধারণ মানুষের মাঝে অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করতে পারে।
সরকার ইতিমধ্যেই ভুয়া সংবাদ ও গুজব রোধে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করেছে। তথ্য মন্ত্রণালয় এবং ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সিগুলো গুজব ছড়ানো ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে তৎপর রয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে যে কেউ ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে দিতে পারে। তবে সচেতন ব্যবহারকারী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো গুজব থেকে দূরে থাকা এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো খবর বিশ্বাস না করা। শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের গুজবটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং কোনো সরকারি বা আন্তর্জাতিক উৎস এই তথ্য নিশ্চিত করেনি। এমন গুজব আমাদের সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ায় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাই সকলের উচিত সচেতন থাকা এবং গুজব রোধে ভূমিকা রাখা।
নিউজ র্যাটর ২৪ ঘণ্টা বাংলার খবর