মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও আগ্রাসী শুল্ক নীতির ঘোষণা দিয়েছেন। এবার তাঁর লক্ষ্য তাম্র ও ওষুধ খাত। যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত তাম্রপণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, ওষুধের ওপর আগামী এক বছরের মধ্যে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
মঙ্গলবার এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “আজ আমরা তাম্র নিয়ে কাজ করছি। আমার মনে হয়, আমরা তাম্রের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবো।” তার এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তাম্রের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে।
মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক জানিয়েছেন, নতুন তাম্র শুল্ক আগামী জুলাইয়ের শেষ নাগাদ বা আগস্টের শুরুতে কার্যকর হতে পারে। ওষুধ খাতে শুল্ক আরোপের ব্যাপারে ট্রাম্প বলেছেন, “আমরা উৎপাদকদের প্রায় এক বছর, এক থেকে দেড় বছর সময় দেবো কারখানা সরাতে। তারপর তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে, আর সেটা হবে অনেক বেশি, প্রায় ২০০ শতাংশ।”
এই সিদ্ধান্ত ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের তাম্র ও ওষুধ রপ্তানির অন্যতম বড় বাজার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত মোট ২ বিলিয়ন ডলারের তাম্র ও তাম্রজাত পণ্য রপ্তানি করেছে, যার মধ্যে ৩৬০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়েছে। এটি ভারতের তাম্র রপ্তানির প্রায় ১৭ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্র ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম তাম্র বাজার, সৌদি আরব (২৬ শতাংশ) ও চীনের (১৮ শতাংশ) পরে। যদিও এই শুল্কের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে চাহিদা কমে যেতে পারে, ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও শিল্প খাত এই ঘাটতি পূরণ করতে পারবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসতে পারে ওষুধ খাতে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সবচেয়ে বড় ওষুধ বাজার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের ওষুধ রপ্তানি ২১ শতাংশ বেড়ে ৯.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ৪০ শতাংশ।
এই খাতে ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ফলে ভারতের জেনেরিক ওষুধ কোম্পানিগুলো ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। উল্লেখ্য, ভারত দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে সাশ্রয়ী মূল্যের জেনেরিক ওষুধ সরবরাহ করে আসছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ওষুধ ও সেমিকন্ডাক্টর খাতের ওপর চলমান তদন্ত চলতি মাসের শেষ নাগাদ শেষ হবে। তারপর প্রেসিডেন্ট চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতোমধ্যেই ট্রাম্প কাঠ, সেমিকন্ডাক্টর এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ খাতেও সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের জন্য তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
এছাড়া, ট্রাম্প আবারও ব্রিকস জোটভুক্ত দেশগুলোর ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আপনি চাইলে ডলারকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন, তবে শুল্ক তো দিতেই হবে। আমি মনে করি, ওরা সেটা চাইবে না।” তিনি ব্রিকস জোটকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বলে মনে করেন না, যদিও স্বীকার করেছেন এই জোট মার্কিন ডলারের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠছে।
বর্তমানে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ‘মিনি ট্রেড ডিল’ নিয়ে আলোচনা চলছে। এই আলোচনার আওতায় ওষুধ ও তাম্রসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে শুল্ক মওকুফ বা হ্রাসের সম্ভাবনা রয়েছে। যদি এই চুক্তি আগস্ট ১-এর আগে সম্পন্ন হয়, তাহলে ভারতের ওপর ঘোষিত শুল্কের প্রভাব এড়ানো সম্ভব হতে পারে।
ট্রাম্পের নতুন মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি আরও কঠোর হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাতে। তাম্র রপ্তানির প্রভাব তুলনামূলকভাবে সামলানো সম্ভব হলেও, ওষুধ খাতে ভারতের অবস্থান বিপদে পড়তে পারে। এখন সব নজর ‘মিনি ট্রেড ডিল’-এর দিকে, যা যদি সময়মতো সম্পন্ন হয়, তাহলে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।
তথ্যসূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ
নিউজ র্যাটর ২৪ ঘণ্টা বাংলার খবর