সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান বিচারিক কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি।
গোলাম মাওলা রনির মতে, যেই আদালত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি কার্যকর করেছিল, এখন সেই একই ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিচার হচ্ছে, যা রাজনীতির এক অদ্ভুত চক্রাকারে ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয়।
তিনি বলেন, “যুদ্ধাপরাধের বিচার করতে গিয়ে যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিলেন শেখ হাসিনা, সেই একই আদালতেই এখন তার বিচার চলছে। ওই আদালতেই জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছিল। এখন সেই ট্রাইব্যুনালেই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলমান মামলায় মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে কাজ করা হচ্ছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, “ইতিমধ্যেই একটি মামলায় তার সাজা হয়েছে। বাকিগুলোর রায়ও যেন তার ফাঁসির দিকে যায়, সে চেষ্টাই চলছে।”
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে রনি বলেন, “জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের সময় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সহিংসতা, হেলিকপ্টার থেকে গুলি, হাসপাতালে চিকিৎসা না দেওয়া— এসবই শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ মদদে হয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে। তদন্তকারীরা তা আদালতে উপস্থাপনও করেছেন।”
তবে এসব ঘটনায় দেশের রাজনীতিতে প্রত্যাশিত আলোড়ন দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, “দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আলোচনার ধারা এখনো হাসিনাকেন্দ্রিক ব্যক্তিগত গুজব ও উপস্থিতি ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে।”
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সম্প্রতি প্রচারিত প্রতিবেদনের ব্যাপারে গোলাম মাওলা রনি বলেন, “বিবিসি ও আল জাজিরার টেলিভিশনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রিপোর্ট এসেছে ঠিকই, কিন্তু আমাদের দেশের এক শতাংশ মানুষও এই রিপোর্ট দেখেনি। যারা দেখেছে, তাদের মধ্যে প্রতি দশ হাজারে একজন পুরোটা দেখেছে। অথচ দেশের রাজপথে কোনো প্রতিবাদ, কোনো উত্তেজনা দেখা যায়নি।”
তিনি মনে করেন, এইসব প্রতিবেদন বরং ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকে আরও সাহসী করেছে। তিনি বলেন, “এই রিপোর্ট সাধারণ মানুষের চেয়ে আওয়ামী লীগকে বরং শক্তি জুগিয়েছে।”
আওয়ামী লীগের মনোভাব নিয়ে তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতি দেখে মনে হয় আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো ভয় বা আতঙ্ক নেই। বরং তারা বলছে— ‘হ্যাঁ, আমরা গুলি করেছি। না করলে দেশ চলত না।’”
গোলাম মাওলা রনি আরও বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে আমরা বহু শক্তিধর ব্যক্তিকে নিয়ে তথ্য উপস্থাপন করেছি— সালমান এফ রহমান, হারুন রশীদ বা সামিট গ্রুপের বিরুদ্ধে। কিন্তু কারো পশমও ছুঁতে পারিনি। আদালতে বিচার হতে গেলে প্রমাণ লাগে, মিডিয়া রিপোর্ট দিয়ে কিছু হয় না।”
নিউজ র্যাটর ২৪ ঘণ্টা বাংলার খবর