ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব, গণিত শিক্ষকের ফোনে যা পেল পুলিশ

ভারতের উত্তরপ্রদেশের আগ্রা জেলার সিকান্দরা এলাকায় এক গণিত শিক্ষকের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ৩৬ বছর বয়সী ওই শিক্ষক পুনিত বসিষ্ঠ দীর্ঘদিন এমপিএস ওয়ার্ল্ড স্কুলে কর্মরত ছিলেন এবং পাশাপাশি পরিচালনা করতেন গুরু বসিষ্ঠ নামের একটি কোচিং সেন্টার। অভিযোগ অনুযায়ী, দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি অশ্লীল ছবি দেখিয়ে এবং কুপ্রস্তাব দিয়ে হয়রানি করেছেন এই শিক্ষক।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, গত ১০ মাস ধরে পুনিত বসিষ্ঠের কোচিং সেন্টারে নিয়মিত পড়াশোনা করত ওই ছাত্রী। এ সময়ের মধ্যে শিক্ষক পুনিত তাকে নানাভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করতেন। তিনি বারবার বলতেন, “তোমার যদি কোনো বয়ফ্রেন্ড না থাকে, তাহলে আমাকে বানিয়ে নাও।” এমন বক্তব্যের পাশাপাশি ছাত্রীকে অশোভনভাবে আচরণ করার অভিযোগও উঠেছে।

ছাত্রীর পরিবার জানায়, এসব অপমানজনক আচরণে মানসিক চাপে পড়ে যায় মেয়েটি। সে ধীরে ধীরে চুপচাপ হয়ে পড়ে। বিষয়টি লক্ষ করে তার মা কারণ জানতে চাইলে ছাত্রী সমস্ত ঘটনা খুলে বলেন। এরপরই বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে আগ্রা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে আগ্রা থানায় মামলা রেকর্ড করা হয় এবং অভিযুক্ত পুনিত বসিষ্ঠ এখন পলাতক। আগ্রা থানার ডিসিপি সিটি সোনম কুমার জানান, “অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাকে শিগগিরই গ্রেপ্তার করা হবে।”

এদিকে, আগ্রা থানার ইনচার্জ রাজীব ত্যাগী জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শিক্ষক পুনিত বিবাহিত এবং এর আগেও অন্যান্য ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, তার মোবাইল ফোনে অশ্লীল ছবি সংরক্ষিত ছিল। পুলিশ ইতিমধ্যে মোবাইলের ডেটা বিশ্লেষণ করছে এবং প্রাসঙ্গিক প্রমাণ সংগ্রহ করছে।

এমপিএস ওয়ার্ল্ড স্কুলের চেয়ারম্যান একে সিংহ জানিয়েছেন, পুনিতের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা এই ধরনের অনৈতিক আচরণের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করি। বিষয়টি আমাদের নজরে আসা মাত্রই আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি।”

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, অভিযুক্ত শিক্ষক পুনিত বসিষ্ঠ পূর্বেও বেশ কয়েকজন ছাত্রীকে নানা ধরনের হয়রানির মাধ্যমে মানসিক চাপে ফেলে ছিলেন। তবে আগ্রা থানায় এই প্রথম তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ের হলো।

এই ঘটনার পর সমাজে শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একজন শিক্ষকের দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে এমন আচরণ শুধুমাত্র নৈতিকতার পরিপন্থীই নয়, এটি শিক্ষাক্ষেত্রের জন্যও মারাত্মক হুমকি। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

তথ্যসূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ

Leave a Reply