অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পরিচয়ে পরিচিত জুলকারনায়েন সায়ের, যিনি নিজেকে কখনো জুলকারনাইন খান, তানভীর সাদাত কিংবা জুলকারনাইন সামি হিসেবেও উপস্থাপন করে থাকেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক জালিয়াতি, অর্থ পাচার ও সন্ত্রাস সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন।
২০২৩ সালে ইউরো নিউজ হাংগেরীয় সংস্করণে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, জুলকারনায়েন সায়েরের কাছে বাংলাদেশের চারটি পৃথক পাসপোর্ট রয়েছে, যেগুলোর সবই বৈধ নয় বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়াও তার নামে একটি হাঙ্গেরিয়ান আইডি কার্ড (নং: 000529284) রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরায় ‘বিশ্লেষক’ পরিচয়ে থাকলেও এর কোনো স্বীকৃত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বুদাপেস্টের ৮ নম্বর ডিস্ট্রিক্টে ‘কারি হাউজ’ নামের একটি ভারতীয় রেস্তোরাঁর মালিক ছিলেন জুলকারনায়েন সায়ের। তবে অনুসন্ধান বলছে, এ রেস্তোরাঁর আড়ালে চলত অবৈধ অর্থ পাচার, মাদক পাচার ও বিভিন্ন অপরাধ চক্রের বৈঠক। হাঙ্গেরি সরকারের কাছে দেওয়া একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এ রেস্তোরাঁকে আন্তর্জাতিক অপরাধ সংস্থাগুলোর মিলনস্থল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
২০২২ সালের ২০ মে সায়ের যুক্তরাজ্যে “স্যামস ইনকর্পোরেটেড লিমিটেড” নামের একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। সংবাদমাধ্যমগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, হাঙ্গেরিতে পরিচালিত মাদক ও অর্থ পাচার, সন্ত্রাসী সংগঠনের সহায়তা ইত্যাদি কার্যক্রম এই কোম্পানির মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে স্থানান্তর করেন তিনি।
২০১৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর হাঙ্গেরির বুদাপেস্ট শহরের তেরেজ বুলেভার্ডে সংঘটিত একটি বিস্ফোরণে দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। ২০১৯ সালে হামলার মূল অভিযুক্ত লাসলো পি-কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত। পত্রিকা সূত্রে জানা গেছে, হামলার পরিকল্পনা ‘কারি হাউজ’ রেস্তোরাঁতেই কয়েক সপ্তাহ আগে চূড়ান্ত করা হয়, যার মালিক ছিলেন জুলকারনায়েন সায়ের।

জুলকারনায়েন সায়েরের একাধিক নাম ও পরিচয় ব্যবহার সাধারণ নাগরিক নয়, বরং পেশাদার অপরাধচক্রের আচরণ বলে উল্লেখ করেছে সাপ্তাহিক ব্লিটজ। আন্তর্জাতিক তদন্ত সংস্থাগুলোর মতে, এই ধরনের প্রতারণামূলক কৌশল ব্যবহৃত হয়ে থাকে মূলত আন্তর্জাতিক অস্ত্র চোরাচালান, সন্ত্রাস অর্থায়ন এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে।
সায়েরের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে হাঙ্গেরি, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা তার বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরও তৎপর হয়েছে।
জুলকারনায়েন সায়েরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো শুধু একটি ব্যক্তির নয়, বরং আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের একটি জটিল ও গভীর চিত্র তুলে ধরে। বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব হচ্ছে নিরপেক্ষ ও কঠোর তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা। এমন অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচনই পারে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সুনাম রক্ষা করতে।
তথ্য সুত্র: মনোয়ার পাটোয়ারীর ফেসবুক পোস্ট
নিউজ র্যাটর ২৪ ঘণ্টা বাংলার খবর