সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গত ৭ মে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে (টিজি-৩৩৯) গভীররাতে ঢাকা ত্যাগ করেন। কিশোরগঞ্জে একটি বৈষম্যবিরোধী মামলার অন্যতম আসামি হয়েও তার দেশত্যাগ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়েও সমালোচনার ঝড় ওঠে।
আবদুল হামিদের দেশত্যাগের বিষয়টিকে ঘিরে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কিশোরগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপারসহ চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে তিন সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়।
আবদুল হামিদের দেশত্যাগ এবং মামলার পটভূমিকে ঘিরে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের দাবির মুখে গত মাসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। একইসাথে দলটির নিবন্ধনও স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।
দেশত্যাগের ৩১ দিন পর ৯ জুন দিবাগত রাত দেড়টায় থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় ফেরেন আবদুল হামিদ। রাত ১টা ৪৫ মিনিটে হুইল চেয়ারে করে তিনি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কাউন্টারে যান। সেখানেই তাকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়।
পরে রাত পৌনে ৩টার দিকে তার ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তিনি বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। কিন্তু দেশে ফেরার পরপরই তার বিরুদ্ধে মামলা থাকা সত্ত্বেও কেন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, সেই প্রশ্ন আবারও সামনে আসে।
এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “আব্দুল হামিদের বিরুদ্ধে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা না থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “কিছু কিছু মামলার এখনও তদন্ত হয়নি। তদন্ত শেষে যারাই দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো নির্দোষ যেন সাজা না পায়, সেজন্য আমরা সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছি। আইনের চোখে সবাই সমান। সাবেক রাষ্ট্রপতিও এর ব্যতিক্রম হবেন না।”
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব শেষ করার পর আবদুল হামিদ রাজধানীর নিকুঞ্জে পারিবারিক বাসভবনে উঠেছিলেন। ৭ মে রাতে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে থাইল্যান্ডে যান তিনি। তার সঙ্গে ছিলেন ছোট ছেলে রিয়াদ আহমেদ তুষার ও শ্যালক ডা. আ. ন. ম. নৌশাদ খান। জানা যায়, দেশের চিকিৎসকদের পরামর্শেই তিনি বিদেশে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন।
মো. আবদুল হামিদ ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার শপথ গ্রহণ করেন। এরপর ২০১৮ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ২১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি।
তবে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে কিশোরগঞ্জে ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও গুলি চালানোর ঘটনায় সদর মডেল থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় তাকে আসামি করা হয়। মামলায় তার সঙ্গে আরো উল্লেখযোগ্য কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা যেমন—সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহেনা, সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাঃমা ওয়াজেদ পুতুলসহ মোট ১২৪ জনকে আসামি করা হয়।
আবদুল হামিদের ফেরার মধ্য দিয়ে এই মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম আরও জোরদার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস থাকলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে—একজন সাবেক রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রে আইন কতটা কার্যকর হবে?
তথ্যসূত্র: কালের কণ্ঠ
নিউজ র্যাটর ২৪ ঘণ্টা বাংলার খবর